কোরবানী আবার ঈদ হয় কেমনে ? কুমিল্লা দক্ষিন জেলা ছাত্রফ্রন্টের সভাপতির ঈদ ভাবনা
"কোরবানী আবার ঈদ হয় কেমনে ?"
গত বছর কোরবানীর ঈদে এটা পোষ্ট দিয়েছিলাম
অনেকই এতে বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন ,তাই অাজকে এই বিষয়টা নিয়ে কিছু কথা বলব ।
কষ্ট করে পড়বেন , ভুল হলে দয়া করে ধরিয়ে দিবেন । কারন অামি ভুলের উর্ধ্বে নই ।
"ঈদ উল অাযহা (কোরবানীর ঈদ)"
ইসলামের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কোরবানী । অাল্লাহ তিনাঁর বন্ধু হযরত ইব্রাহিম অা: কে তার সবচাইতে প্রিয় জিনিস অাল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানী করতে বললেন , নবী অা: অাল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উট/দুম্বা কোরবানী করলেন কিন্তু অাল্লাহ পাক তা কবুল করলেন না কারন এদের চাইতেও প্রিয় বস্তু নবী অা: এর কাছে ছিল । তা ছিল নবী পুত্র ঈসমাইল অা: ।
উপরোক্ত ঘটনাটা প্রত্যেক মুসলমান ই অামরা কম বেশি জানি । কিন্তু একবার ও চিন্তা করছি কি যে নবী অা: একবার অাল্লাহু অাকবর ধ্বনি শোনার জন্য নিজের সমস্তু উটের পাল বিলিন করে দিয়েছেন , যে নবী অা: খলিল উল্লাহ উপাধি পেয়েছেন , তিনার উট/দুম্বা কোরবানী অাল্লাহর দরবারে কবুলিয়াতের যোগ্যতা পায় নাই । তাহলে অামার অাপনার গরু/ছাগল কোরবানী কিভাবে অাল্লাহর দরবারে কবুলীয়াতের যোগ্যতা পাবে ?
তাই সাধক অাফসোস করে বলেন
গরু কি তোর এতই অাপন ?
বনের পশু জবাই করে নাম ফালাইলে কোরবানী ।
অাবার অন্য এক রশিক মজা করে বলেন
কোরবানী যদি ত্যাগ হয় অার ঈদ যদি খুশি হয়
তাহলে কোরবানী অাবার ঈদ হয় কেমনে ?
বরই চিন্তার বিষয় ?
এই তো কিছু দিন অাগে একমাস অাগে রোজা শেষ করে অামরা ঈদুল ফিতর উৎযাপন করলাম । দীর্ঘ এক মাস অাল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সকল খারাপ কাজ নিজেকে বিরত রাখলাম। অাল্লাহর হুকুম পালন করতে গিয়ে কত স্বাদের খাবার সামনে নিয়ে প্রচন্ড খিদা থাকা সত্বেও অাল্লাহকে ভালবেসে হওক অার ভয়েই হওক খাবার না খেয়ে উপোস কাটালাম । অাল্লাহ মুচকি হাসল ,বান্দার উপর খুশি হল ,বান্দার সমস্ত গোনা মাফ করে দিল । বান্দা খুশিতে অাত্বহারা হয়ে নতুন জামা কাপড় পরে ভাই ভাই কোলাকোলি খুশিতে অাত্বহারা হল । ঈদুল ফিতর পালন করল ।
তাহলে কোরবানীর ঈদ কেমনে ?
এখনে কিভাবে অাল্লাহ অামাদের উপর খুশি হবেন ?
অামরা তো এখানে অাল্লাহর জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকি নাই কিংবা রমজানের মত ইবাদত কিংবা পাপ কাজ থেকে তোমন ভাবে রোজা রাখি নাই ।
তাহলে কিভাবে অাল্লাহ অামাদের উপর সন্তুষ্ট হবেন । কিভাবে অামরা অাবার ঈদ করব ?
কিভাবে খুশিতে অাত্বহারা হব ?
এই ঈদ পাবার জন্য কি করতে হবে অামাদের ?
তার জন্য নিশ্চয় অামাদের সেই নবী অা: এর মত প্রিয় জিনিস খুজে বের করতে হবে ?
তাহলে অামাদের প্রিয় জিনিস কি ?
অামি মনে করি অামার প্রিয় জিনিস ,কাম,ক্রোধ,লোভ,লালসা,হিংসা,মোহ
নবী অা: এর ধারাবাহিকতায় অামার কোরবানী ও যদি অাল্লাহর কবুলিয়তের দড়জায় স্থান পেতে হয় অামাকে এগুলো কোরবান দিতে হবে । এসব ত্যাগ করতে হবে ।
যা অত্যান্ত কঠিন কাজ । কোন কামেল মোকাম্মেল ওলী অাল্লাহ কিংবা মুমিন বান্দার পরশ ছাড়া এসব ত্যাগ করা সম্ভব না । যদি তাহাদের সহচার্যে কিংবা কোন ভাবে এই অসাধ্য সাধন করতে পারি তাহলে অামার কোরবানী অাল্লাহর দরবারে কবুলীয়তের যোগ্যতা পাবে ।
অার অামি কোরবানী খুশি উৎযাপন করতে পারব। নতুবা শুধু শুধু গোশত খাওয়া ছাড়া কোন কাজে অাসবে বলে অামার মনে হয় না ।
তাহলে গরু কোরবানী কেন করব ?
এটা অাল্লাহর বিধান,অাল্লাহ যেহেতু নবী ঈসমাইল অা: কে সরিয়ে এখানে দুম্বা দিয়েছিলেন । তাই অামরা মনের ছয় রিপু(পশু) কোরবানীর সাথে সাথে গরু/ছাগল কোরবানী দিব।
কিন্তু বরই অনুতাপের বিষয় এখানে ও অামরা ফেল করলাম
কিভাবে ?
দেশে সারা বছর যতগুলো ফ্রিজ বিক্রি না হয় তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় কোরবানী ঈদের অাগে । গোশতের লোভ তো ছাড়া যায় না । ডিপ ফ্রিজে কাচা গোশত পেকেট করে করে ফুল করে , তরকারী কয়েক প্রকার রান্না করে নরমাল ফ্রিজে ,কেহ কেহ শুকনো মাংস খেতে পছন্দ করি তাই কিছু শুকাইয়া রাখি । টিভিতে ও দেখি ঈদের সময় গরুর মাংসের শত প্রকার রেসেপি প্রচার হয় । এখন অাবার দেখি গরুর মাংসের অাচার ও হয় । যাক অারো একটা সংরক্ষনের উপায় বের হল ।
বাহ্ !!! অামার সৃষ্টির সেরা জীব ! গর্ব করে যখন এটা বলি তখন হয়তো বাকি ১৭৯৯৯ মাখুলক মুচকি মুচকি হাসে ।
একটা বিষয় অাবার গত দুই দিন দুই জনের মুখে শুনলাম যে, তুমি মাংস খেতে পারলে গরিব মিনকিনকে না দিলে চলবে ,এতে কোরবানীতে কোন সমস্যা হবে ।
ইয়া অাল্লাহ মাবুদ! অামরা মানুষ জাতি ১৮০০০ মাখলুকের কত নাম্বারে অাছি ?
থাক, অাল্লাহ রাসুল যেহেতু তিনার গরিব উম্মতের জন্য প্রত্যেকের জন্য সকলের কোরবানীর সাথে তিনাঁর একটা অংশ রেখে গেছেন । তাই কিছু গোশত তো গরিব মিসকিনদের দিতেই হবে ।
খুবই কষ্টের বিষয় এখানে ও ফেল করলাম
কিভাবে ?
গরু জবাই করে অাগে দিল/কলিজা বের করে ঘরে রান্না শুরু হয়ে গেল ।এখানে যে অন্য কারোর হক অাছে তা খেয়ালই করলাম না । সাথে পোলাও এর গন্ধে পুরো বাড়ি ভরে গেল । যত দ্রুত কলিজা দিয়ে পোলাও খেতে হবে । অার বাড়ির অাঙ্গিনা বাসার নিচে মিসকিনের দল কিংবা ছোট ছোট বাচ্চা গুলো দাড়িয়ে অাছে একটা পলিথিন নিয়ে তাদের মাংস কাটা শেষ হলে গোশত দিলে বাসায় নিয়ে তাদের মা রান্না করে দিবে ওরা মাংসের স্বাদ পাবে । কিন্তু পোলাও মাংসের গন্ধে হয়ত তাদের অপেক্ষার প্রহর ফুরায় না।
হয়ত তখন অাল্লাহর অারস কাপে । হয়ত অাল্লাহর রাসুল এই মিসকিনদের জন্য এখনো রওজা কেদে ভিজায় ।
ওরা মাংস কাটা দেখতে বেশি কাছে চলে অাসলে কেহ হটাৎ বলে উঠি পরে অাইস গোশত কাটা শেষ হওক !
বেলা গড়িয়ে দুপুর শেষ । এক তরফা অামাদের খাবার ও শেষ এবার অাল্লাহর রাসুলের নামের গোশতটা মিসকিনদের বিলাতে হবে ।
অাল্লার রাসুলের গোশত ভাগ করতে ও বিলাতে অামরা ফেল করলাম !
কিভাবে ?
চর্বিটা, পর্দার গোশতটা কিংবা যেগুলো কাটার সময় ময়লা কিংবা থেতলে গেছে কিংবা যেগুলো অামরা খেতে ভাল লাগবে না, কিছু হাড় অার খুব কষ্টে সাথে কিছু গোশত ওই গুলো অাল্লাহর রাসুলের অংশ । সিনার গোশত কিংবা মগজ তো অাগেই বাসায় চলে গেছে ।
এবার মিসকিনরা একে একে পলিথিনটা সামনে বাড়িয়ে দেয় তারপর ছেলে,মেয়ে বাবা ,ভাই একট টুকরা,দুই টুকরা করে করে প্রতিটা পলিথিনে দিয়ে দেয় । বাবা ছেলে শিক্ষা দিচ্ছে দেখ এই ভাবে দান করবা ।
অাল্লাহ অনেক খুশি হবে !
ভবিষতে অনেক বড় হবা ।(বড় মানে কিন্ত বেশি টাকা পয়সার মালিক)
অাল্লাহ নিশ্চয় তার হাবিব নবী মোস্তফাকে ডাক দিয়ে বলেন ,হে হাবীব অাপনি এই উম্মতের জন্য এখনো কাদেন ?
বাড়ির কর্তা মশাই এর মাথায় অারো একটা প্ল্যান অাছে ?
এখানে অাবার কি ?
এখানে ও ফেল করলাম অামরা ?
গ্রামের বাড়িতে কিছু অাত্বীয় স্বজন অাছে তাদের তো গোশত পাঠাতে হবে । না পাঠালে মান সম্মান থাকবে না । অাবার তাদের কে তো দুই এক টুকরা দেওয়া যাবে না । কোরবানীর তে অাত্বীয় স্বজনের হক টা দেয়া যাবে না এটা দিলে নিজের গোশত কমে যাবে ।
অাবার মিসকিনদের বেশি দিলে তো ওরা রাস্তার মোরে নিয়ে বিক্রি করে দিবে ।
নিশ্চয় অাল্লাহর রাসুল কেদে কেদে বলেন হায়রে উম্মত ?
অামার সাথে ও দুই নাম্বারি করলি ?
ওরা তোর বাড়ির পোলাও এর গন্ধ তো তাদেরকে নিচে দাড় করিয়ে অনেকক্ষন খাওয়াইলি । কই একবার তো একটা বাচ্চাকে জিজ্ঞাস করলি নি ? কিরে বাবা খাবি কিছু ?
এখন যেন ওরা কিছু গোশত বিক্রি করে পোলাও চাল কিংবা অন্যান্য সরন্জামাধি কিনব তখন এটা তোর খুব করে চোখে পড়ল ?
যাক কর্তা মশাই এর সীদ্ধান্ত চুড়ান্ত মিসকিনদের গোশতটা অল্প কয়েকজন দিয়ে বাকিটা বাসায় নিয়ে অাসল । বাসার বাসার গোশত থেকে অারো কিছু গোশত দিয়ে মিসকিনের গোশতটা সাথে মিশিয়ে মোটা মোটি ওজনের কিছু ব্যাগ করে ছেলেকে নতুন জামা কাপড় পরিয়ে অাত্বীয় স্বজন এর বাসায় পাঠিয়ে দিলাম । অাত্বীয় অনেক খুশি হবে অমুক সাহেব গোশত পাঠাইছে । নিজের নাম বাড়বে ।
অাল্লাহ তখন নিশ্চয় তার হাবীব কে ডাক দিয়ে বলেন হে হাবীব, এই সকল ব্যাক্তি গুলো যদি সারা জিবন এমন ভাবে গরু জবাই করে কোরবানী নাম দেয় । ওরা শুধু গোশতই খেতে পারবে । অামি কসিন কালেও তাদের কোরবানী কবুল করব না । অার তাদের কপালেও কখনো কোরবানীর ঈদ জুটবে না । অাপনি তাদের জন্য অামার কাছে সুপারিশ কইরেন না ।
বি:দ্র: উপরোক্ত লেখা লেখকের ব্যাক্তি গত মতামত ,কাহারো সাথে মিলে গেলে তার দ্বায় লেখক নিবেন না ।
কোরবানী হওক অামাদের মনের মিনায়। কোরবানীর গোশত নিজে কম রেখে বেশিটা গরিবদের বিলাতে উৎসাহি হই । তাহলেই অামাদের কোরবানী অাল্লাহর দরবারে কবুলিয়াতের যোগ্যতা পাবে । অাল্লাহ খুশি হবেন ।
অামাদের কোরবানী অামাদের ঈদে পরিণত হবে ।
ইমতিয়জি হোসাইন মাদানী সনেট
সভাপতি
জাকের পার্টি ছাত্রফ্রন্ট কুমিল্লা দক্ষিন জেলা ।
