2020/05/22

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِِ ( বিষয়বস্তুঃ পূর্ববর্তী প্রধান প্রধান ওলী-আল্লাহগণের ভবিষ্যদ্বাণীর ভিত্তিতে তরিকতের ইমাম শায়খ আহমদ সেরহেন্দী হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের শ্রেষ্ঠত্ব নিরুপণ )

SHARE
               

                                        بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِِ
(বিষয়বস্তুঃ পূর্ববর্তী প্রধান প্রধান ওলী-আল্লাহগণের ভবিষ্যদ্বাণীর ভিত্তিতে তরিকতের ইমাম শায়খ আহমদ  সেরহেন্দী হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের শ্রেষ্ঠত্ব নিরুপণ)

#পৃথিবীতে_নবী_ও_রাসূল(আঃ)#এবং_মুজাদ্দেদ_বা_সংস্কারক_প্রেরণের_উদ্দেশ্যঃ

আল্লাহপাক মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাহার পরিচয় গ্রহীতা ও প্রেম গ্রহীতা হিসেবে। মানুষ আল্লাহ পাকের নাম ও গুণাবলীর প্রকাশস্থল হইবে_ ইহাও মানব সৃষ্টির এক মহৎ উদ্দেশ্য। মানুষকে সৃষ্টি করিয়া আল্লাহপাক দুনিয়ায় পাঠাইয়া তদীয় প্রতিনিধিত্ব দান করিয়াছেন, আরও দান করিয়াছেন ১৮০০০ হাজার আলম_ এর উপরে মানুষের ছর্দারী করিবার ক্ষমতা। কিন্তু দুনিয়ায় আসিয়া মানুষ বেমালুম ভুলিয়া গিয়াছে তাহার সৃষ্টির উদ্দেশ্য, ভুলিয়া গিয়াছে পরিচয় গ্রহণের কথা; বিস্মৃত হইয়াছে আলমে আরওয়াহতে দেওয়া ওয়াদার কথা। পার্থিব মোহ, শয়তানের কু_মন্ত্রণা ও নফসের ধোঁকায় মানুষ অন্ধ।

সেই ধোকায় পড়িয়া মানুষ পাপাচার ও কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়; আল্লাহকে ভুলিয়া যায়; ভুলিয়া যায় তাহার আদি আবাসস্থলের  কথা। কিন্তু আল্লাহ পাক মানুষকে ভালোবাসেন; প্রেমের কারণেই তিনি মানব সৃষ্টি করিয়াছেন। কাজেই এই মানুষ পথভ্রষ্ট হউক, শয়তানী কুহকে ও নাফসের ফেরের এ পড়িয়া সে ধ্বংস হোক_ ইহা দয়াময় খোদাতায়ালা চান না। তাই মানুষকে পাপাচার, অসত্য ও কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে উদ্ধারের জন্য, গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি দানের জন্য, সত্যের নূর প্রদানের জন্য অর্থাৎ নাফসের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করিয়া নিজ নাম ও গুণাবলীর প্রকাশস্থলের যোগ্যতা প্রদানের জন্য; যখনই প্রয়োজন বোধ করিয়াছেন, তখনই নবী বা পয়গম্বর প্রেরণ করিয়াছেন। এইভাবে যুগে যুগে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার, মতান্তরে দুই লক্ষ ২৪ হাজার পয়গম্বর প্রেরণ করিয়াছেন, কাহারো কাহারো নিকট দিয়েছেন পথ চলার নিয়মপদ্ধতি সম্বলিত বিধান পুস্তক বা আসমানী কিতাব। সর্বশেষে আগমন করেন নবীকুল শিরোমণি, সারওয়ারে কায়েনাত, মোফাখ্খারে  মওজুদাত হযরত আহমদ মুজতবা মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)। শেষ নবী ও রাসূল (সাঃ)  এর উপর সম্পন্ন হয় মানবজাতি ও অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি আল্লাহপ্রদত্ত যাবতীয় নেয়ামতের পরিপূর্ণতা প্রদান।

রাসূলে পাক (সাঃ) এরপর আর কোন নবী আসিবেন না। তাহা হইলে কে আল্লাহর দীন হেফাজত করিবে? আল্লাহপাকই সেই ব্যবস্থা  করেন। নিজ মনোনীত ধর্মকে জীবিত রাখার জন্য; গোমরাহী, শেরেকী ও বেদাতীর বিষাক্ত ছোবল থেকে ইসলামকে হেফাজতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীতেই মুজাদ্দেদ বা সংস্কারক প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। রাসূলে পাক (সাঃ) এর পর থেকে আজ পর্যন্ত মুজাদ্দেদ বা ধর্মের সংস্কারক আগমনের ধারা অব্যাহত রহিয়াছে। কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারা চালু থাকিবে। রাসূলে পাক (সাঃ)  এর পরে সমস্ত উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে সাহাবাদের দল শ্রেষ্ঠতম। সেই দলের শ্রেষ্ঠতম পুরুষ হযরত আবুবক্কর সিদ্দিক (রাঃ) ছাহেব। সাহাবাদের যুগের পর হইতে আজ অবধি যত সাধক, যত মুজাদ্দেদ বা সংস্কারক, যত ওলী_আল্লাহ জগতের বুকে আবির্ভূত হয়েছেন, তাহাদের সকলের মধ্যে ইমামে রাব্বানী, কাইউমে জামানী, গাউছে ছামদানী, হযরত শায়খ আহমদ সেরহেন্দি (রাঃ) ছাহেবের আসন বা মর্যাদা শীর্ষে। কেন তিনি শ্রেষ্ঠতম ওলী? কোন্ কোন্ কর্মকান্ডের ভিত্তিতে তিনি এমন উচ্চ আসন লাভ করিয়াছেন? সেই বিষয়ে মুজাদ্দেদীয়া তরিকার প্রত্যেক  অনুসরণকারীরই কিছু না কিছু জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এই অধ্যায়ে তাঁহার শ্রেষ্ঠত্বের কিঞ্চিত পরিচয় পাওয়া যাইবে।
শেয়ার করুন
SHARE

Author: verified_user