2020/08/01

আজ পবিত্র ঈদুল আযহা

SHARE

আজ পবিত্র ঈদুল আযহা

আজ পবিত্র ঈদুল আযহা। কোরবানীর ঈদ। মহাতাৎপর্যময় এ ঈদে বিশ্ব জুড়ে সামর্থ্যবান মুসলমানগন আল্লাহর সন্তুষ্টির রাহে সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানী করেন।

শুধুমাত্র পরম রবকে একান্ত আপনার করে সব কিছুর চাইতে ভালোবাসার তাগিদ যেমন  কোরবানীর ঈদের অন্তনিহিত তাৎপর্য, তেমনি সত্য ইসলামের পবিত্র মর্যাদা ও চেতনা সমুন্নত রাখার সুমহান  অভিপ্রায়ে কারবালা প্রান্তরে দয়াল নবীজীর ( সাঃ) প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন ( রাঃ) ছাহেবের সপরিবারে শাহাদাত বরন এই কোরবানীর ঈদের প্রাক্কালে আরেক মহাবিয়োগান্তক ও চেতনাভাস্বর দিক।

কোরবানী ঘিরে পশু উৎসর্গ, উৎসব, আনন্দ,উচ্ছাস আর অনুষ্ঠানাদির আজ যে  গতানুগতিকতা, তা থেকে 'কোরবানী'র গভীরে যাওয়া জরুরী। 

এ প্রসঙ্গে আখেরী মুজাদ্দেদ, আখেরী মুর্শেদ বিশ্ব ওলী হযরত শাহ্সুফী খাজাবাবা ফরিদপুরী ( কুঃ ছেঃ আঃ) কেবলাজান ছাহেব যে গভীর ও সুবিস্তৃত নসিহত করেছেন, তার উদ্ধৃতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

বিশ্ব ওলী কেবলাজান ছাহেব নসিহত করেন, "কোরবানীর উৎসব উদ্‌যাপনের মূলে আছে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর কোরবানীর আদর্শ স্মরণ ও অনুসরণ।

পশু কোরবানী দেওয়া কোরবানীর জাগতিক নিদর্শন। কোরবানীর একটি অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আছে। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর কোরবানীতে মূল এবং প্রতিবিম্ব-উভয়ই ছিল।

কোরবানীর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য মূল এবং পশুর গলায় ছুরি চালনা -যাহা কোরবানীর অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের যেল বা ছায়া।

প্রেমাস্পদের নির্দেশে নিজ হাতে পুত্র কোরবানীর যে অপূর্ব ও অনুপম দৃষ্টান্ত তিনি ( হযরত ইব্রাহীম  (আঃ )স্থাপন করিলেন- সেই অপূর্ব কর্মকান্ড, ত্যাগ, উৎসর্গ ও আনুগত্যের ঘটনাকে স্মরণীয় করার জন্যে আল্লাহতায়ালা এক চমৎকার ব্যবস্থা গ্রহণ করিলেন। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর বংশধর আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) কে কোরবানীর আদেশ দিলেন এবং তদসংগে উম্মতে মুহাম্মদীকে কোরবানীর উৎসব পালনের নির্দেশ দিলেন।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর নাফস জন্মগত পবিত্র ছিল। তদীয় নাফসের সাথে আল্লাহর কোন বিরোধ ছিল না। তাই তিনি ছিলেন আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের গুণে গুণী। সেই আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করিলেন নিজ প্রাণাধিক পুত্র ইসমাইলকে কোরবানী করিয়া। এই আনুগত্যই কোরবানী তথা ইসলামের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর জীবনের যে আদর্শের কথা আল্লাহপাক উল্লেখ করিয়াছেন-তাহা হইল আল্লাহর সমীপে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও পরিপূর্ণ আনুগত্য-যাহা হাকীকী ইসলামের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর আদর্শের অনুসরণের গুণ বা যোগ্যতা অর্জন করাতো সহজ কথা নয়। সেই জন্য প্রয়োজন মানুষের ভিতরের পশু বা খায়েশাতে নাফ্‌সকে কোরবানী করা অর্থাৎ গায়ের আল্লাহর মহব্বত দেল হইতে দূর করা তথা কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করা। ইহাই কোরবানীর হকিকত। আর এই হকিকতেরই যেল বা প্রতিবিম্ব হইল গরু, ছাগল, ভেড়া বা উট তথা জাগতিক পশু কোরবানী।

পাক কালামে প্রকাশঃ
‎لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ ۚ (22:37)
অর্থাৎ- “কুরবাণীর রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, ইহার গোশতও না। বরং তাহার কাছে পৌঁছায় কেবলমাত্র তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা হজ্জ্বঃ ৩৭)

যখন জাগতিক পশু কোরবাণীর সাথে বাতেনী কোরবানী তথা খায়েশাতে নাফসের কোরবানী একত্রিত হয় তখনই হাকীকী ইসলামের সন্ধান পাওয়া যায়; তখনই শান্তির প্রকৃত ঠিকানা উদঘাটন করা যায়। নিজেকে সমর্পণের যোগ্যতাও পয়দা হয়। কোরবানীর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য এখানেই।"

কোরবানীর প্রকৃত শিক্ষা নিজ নিজ জীবনে প্রতিফলিত করে মুসলমানগন কল্যাণময় জীবন রচনায় ব্রতী হোন। সার্বিকভাবে প্রকৃত  ইসলামের তেজদীপ্ত উদারনৈতিক মানবিক রুপ শান্তিকামী বিশ্ব মানবতার জন্য আরো কল্যাণ বয়ে আনুক।

ঈদ মোবারক।


SHARE

Author: verified_user