2020/05/20

আজ পবিত্র শবেকদর

SHARE
Like To Share ZpNews24

লাইলাতুল কদর কি?
‘লাইলাতুন’শব্দের আভিধানিক অর্থ রাত এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান ও মাহাত্ম্য। ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থ সম্মানিত রাত বা মহিমান্বিত রাত। ‘কদর’ শব্দের আর এক অর্থ ‘তকদীর’। কদর রজনীতে পরবর্তী এক বছরের নির্ধারিত বিধিলিপি ফেরেশতাদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। সেই বিধিলিপিতে প্রত্যেক মানুষের জন্ম, বয়স, মৃত্যু, রিযিক ইত্যাদি লিপিবব্ধ থাকে। উল্লিখিত বিধান প্রয়োগের জন্য চারজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন। তাহারা হইলেন হযরত ইসরাফীল (আঃ), হযরত মীকাঈল (আঃ), হযরত আয্‌রাইল (আঃ) ‍ও হযরত জিব্রাইল (আঃ)।
এখানে উল্লেখ্য, লাইলাতুল বরাতেও তকদীর (পরবর্তী এক বছরের) লিপিবদ্ধ হয়; আবার লাইলাতুল কদরেও ‍লিপিবদ্ধ হয়-দুইয়ের মধ্যে তফাৎ কি? মুলতঃ তকদীর সংক্রান্ত বিষয়াদির প্রাথমিক ফায়সালা হয় লাইলাতুল বরাতে এবং আল্লাহপাক তাহা নিজের কাছে সংরক্ষিত রাখেন। তকদীরের বিশদ বিবরণ লিপিবদ্ধ হয় লাইলাতুল কদরে যাহা এই রাত্রিতে ফেরেশতাদের নিকট সোপর্দ করা হয়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ছাহেব বলেন, ‘‘আল্লাহতায়ালা সারা বছরের তকদীর সংক্রান্ত ফায়সালা শবে বরাতে সম্পন্ন করেন, অতঃপর শবে কদরে এই সব ফায়সালা সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের নিকট সোপর্দ করেন।” (মাযহারী)

লাইলাতুল কদর হইল কুরআন-অবতরণ রজনীঃ
লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম্য ও ফযিলত সম্পের্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, আমি ইহাকে (কুরআন শরীফ) নাযিল করিয়াছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে আপনি কি জানেন? লাইলাতুল কদর হইল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এই রাত্রিতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাহাদের পালন কর্তার নির্দেশে।এটা নিরাপত্তা, যাহা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কদরঃ ১-৫) আল্লাহপাক অন্যত্র আরও বলেন, “আমি ইহা (কুরআন মজীদ) এক কল্যাণপূর্ণ রজনীতে অবতীর্ণ করিয়াছি।” (সুরা দুখানঃ৩)
সূরা কদরের প্রথম আয়াতে দেখা যায় যে, পবিত্র কুরআন মজীদ শবে কদরে নাযিল হইয়াছে এবং সূরা দুখানের উল্লিখিত আয়াতে কুরআন অবতীর্ণের রজনী কল্যাণপূর্ণ রাত বলিয়া আখ্যায়িত হইয়াছে। ইহাতে সহজেই বুঝা যায় যে, শবে কদরের শ্রেষ্ঠত্বের মূলে আছে পাক কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব। কুরআন মজীদ নাযিলের মাধ্যমে আল্লাহপাক উক্ত রজনীকে মহিমান্বিত করিয়াছেন।

কুরআন মজীদ আল্লাহর কালাম। ইহা মানব জাতির মুক্তির সনদ। পাক কুরআন বিশ্ব মানবের পথপ্রদর্শক। শান্তির বাণীবাহক। কুরআর মজীদে আছে সর্ববিধ সমস্যার সমাধান। আছে ব্যক্তি সমস্যার সমাধান; আছে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যার সমাধান। তেমনি ইহাতে আছে আধ্যাত্মিক সমস্যার সমাধান। কুরআন শরীফ শরীয়ত, তরিকত, হকিকত ও মারেফাতের সূক্ষ্ম তথ্যাবলীতে পূর্ণ।                                                        

"""খোদাপ্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে """" বিশ্ব ওলি শাহ্সূফী হযরত ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেরবের
নসিহত নং -১২৫
রমজান ও ঈদ ( নসিহত শরীফ ২০ খন্ড) থেকে সংগ্রহীত।
SHARE

Author: verified_user