কোরআন সুন্নাহ এর দৃষ্টিতে বাবা কয় শ্রেণী ?
কোরআন সুন্নাহ এর দৃষ্টিতে বাবা কয় শ্রেণী ঃ
* আপন পীরকে বা মোর্শেদকে বাবা বললেই কিছু লোক তিরস্কার ও ঠাট্রা-বিদ্রুপ করেন। এই জন্য বাবা কয় শ্রেণী সে বিষয়ে আলোচনা করা হল।
যেনে রাখা দরকার যে, বাবা বা পিতা মোট আট শ্রেণীর। এই আট শ্রেণী পিতাকেই বাবা বলে সম্বোধন করা জায়েয আর তা কুরআন হাদিস মোতাবেক প্রমানিত। নিচে লক্ষ্য করুনঃ-
* * * আট শ্রেণীর পিতাঃ
১ / আবুল হাকিকাত তথা হাকিকী পিতা ঃ তিনি হযরত রাসূলে পাক ( ছাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া ছাল্লাম ) ।
* দলিল ঃ- রাসূলে পাক ( ছাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া ছাল্লাম) বলেন ঃ আমি সকল রুহের পিতা, আর আমি আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্টি ও মুমিনগণ আমার নূরের ফয়েজ থেকে সৃষ্টি ( তাফছিরে রুহুল বয়ান, ২য় খন্ড,৩৭১ পৃ:।
* দলিলঃ নবী মু'মিনের জানের চেয়েও নিকটে আর নবীর স্ত্রীগণ মু'মিনের মা এবং তিনি মু'মিনদের পিতা ( তাফছিরে রুহুল মায়ানী, ১ম খন্ড,৫৭ পৃ: মুস্তাদ্ রাকে হাকেম, ৪র্থ খন্ড,১৩৩৫ পৃ: হাদিস নং ৩৫৫৬; বায়হাক্বী সুনানে কুবরা, হাদিস নং ১৩১৯৮) হাদিসের সনদ সহি। * যেহেতু নবীজি সকল সৃষ্টির মূল এবং নবীজির উছিলায় সব কিছু সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু তিনি সব কিছুর রুহানী ভাবে হাকিকী পিতা।
২। / আবুশ শরিয়া ( তথা শরিয়তের পিতা হযরত নুহ ( আঃ)
* দলিল ঃ শরিয়তের পিতা তিনি আব্দুল গাফ্ ফার অর্থাৎ নুহ ( আঃ) ( তাফছিরে রিহুল বয়ান) । * পূর্ণাঙ্গ শরিয়তের প্রবর্তন হয় সর্ব প্রথম হজরত নুহ ( আঃ) এর জামানায়, তাই তাঁকে শরিয়তের পিতা বলা হয়।
৩। / আবু লিতাহছিলুল মারেফাত) তথা মারেফাত হাছিলের পিতা ঃ তিনি হজরত আলী ( রাঃ) ।
* দলিল ঃ রাসূলে পাক ( ছাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া ছাল্লাম) বলেন : আমি এলেমের ( এলমে মারেফাতের) শহর তথা সাগর, হজরত আলী ( রাঃ) তাঁর দরজা ( হাকেম শরীফ, ৫ম খন্ড, ১৭৪৪ পৃ: জামে তিরমিজি, ১ম জি: তাফছিরে রুহুল বয়ান, ৫ম খন্ড,৩১১ পৃ: মেসকাত শরীফ,৫৬৪ পৃ: মেরকাত,১১ম খন্ড,২৫২ পৃ: জামেউছ ছাগীর, ১ম জি: ১৬১ পৃ: মাকাছিদুল হাছানাহ,৯৭ পৃ:।
* সুতরাং ইলমে মারেফাতের শহর কিংবা মারেফাতের সাগরে প্রবেশ করতে হলে হজরত আলী ( রাঃ) কে দরজা হিসেবে লাগবে। কারন প্রিয় নবীজি ( ছাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া ছাল্লাম) বলেছেন : * অর্থাৎ আমি এলেমে ( মারেফাতের) শহর, অালী ( রাঃ) তাঁর দরজা। যে এলেম ( মারেফাত) অর্জন করতে চায় তাহলে সেই দরজা হয়েই অর্জন করতে হবে ( মুস্দাদরাকে হাকেম, ৫ঃ খন্ড,১৭৪৪ পৃ: মেরকাত শরহে মেসকাত, ১১তম খন্ড, ২৫২ পৃ:) ।
এই জন্যে হজরত আলী ( রাঃ) কে মারেফাত হাছিলের জন্য পিতা বলা হয়। আপন মোর্শেদ যদিও মারেফাত দান করবেন, তবে ইহা হযরত আলী ( রাঃ) এর সেই দরজা হয়েই মারেফাত এনে দিবেন।
৪। / ( আবুত ত্বরিকাত) তথা ত্বরিকতের পিতাঃ তিনি আপন মোর্শেদ বা পীর।
* দলিলঃ * অর্থ - আর যাকে পথভ্রষ্ট বা ত্বরিকাভ্রষ্ট করি সে কোন ওলীকে মোর্শেদ হিসেবে পাবে না।
( সুরা কাহাফ, ১৭ নং আয়াত )
* " পথ " শব্দটাকে আরবীতে বলা হয় "ত্বরিকা "। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলছেন, যে পথভ্রষ্ট তথা ত্বরিকাভ্রষ্ট তাঁর কোন মোর্শেদ নেই। তাহলে বুঝা যায় সঠিক পথ বা সঠিক ত্বরিকার জন্য মোর্শেদে কামেল একমাত্র উপায়, কারন সঠিক পথের জন্য মোর্শেদে কামেল তেমন, যেমন সন্তানদের কল্যানের জন্য তাঁর পিতা। এই কারনে আপন মোর্শেদকে ত্বরিকতের পিতা বলা হয়।
৫। / ( আবুল বাশার ) তথা মানব জাতির পিতা, তিনি হজরত আদম ( আঃ) । বাবা আদম ( আঃ) যে আদি পিতা এ ব্যাপারে কারোও কোন দ্বিমত নেই।
* দলিলঃ ( খালাক্বনাকুম) অর্থাৎ তোমাদের বাবা " আদম " কে আমি জমীনের মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি। ( তাফছিরে মাজহারী, ৬ষ্ট খন্ড, ৭৩ পৃ:)।
* সুতরাং হজরত আদম ( আঃ) আমাদের আদি পিতা।
৬। / ( আবু লি মুছলীম মিল্লাত) তথা মুসলীম জাতীর পিতা তিনি হজরত ইব্রাহিম ( আঃ)
* দলিল - তোমাদের ( মুসলীমদের) জাতীর পিতা ইব্রাহিম আর সেই তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলমান ( আল কোরআন)। সুতরাং মুসলমানদের জাতীর পিতা হজরত ইব্রাহিম ( আঃ)।
৭। / ( আবু ওয়ালাদ ) তথা জন্মদাতা পিতা। নিজের জন্মদাতাই এই শ্রেণীর পিতা।
৮। / ( আবু লিত তাজিম ওয়া ত্বাকরীম) তথা সম্মান ও তাজিম কিংবা স্নেহের কারনে কাউকে আব্বু বা বাবা বলা। এই শ্রেনীতেই পরেন শ্বশুর মশাই। শ্বশুরকে পিতার মত সম্মানী বলেই বাবা বলা হয়। নিজের ছেলেকে আব্বু বলা, ছোট বাচ্চাদেরকে মুরব্বীরা " বাবা " বলে ডাক দেওয়া, রিক্সা ড্রাইভারকে আরোহীগন " বাবা আস্তে চালাও " বলা, দাদার পিতাকে " বড় আব্বা " বলা ইত্যাদি এগুলো এই স্তরের অন্তর্ভূক্ত। যদিও তাঁরা পিতা নয় তবুও সম্মান, তাজিম ও স্নেহের কারনে পিতা বলা হয়।
* * যেনে রাখা দরকার যে, আপন পীরকে বাবা বলা ফরজ, ওয়াজিব কোনটিই নয় বরং ইহা একটি " আদব " ।
