2020/04/21

সিরহিন্দ অর্থ ''বাঘের অরণ্য।

SHARE
                    

সিরহিন্দ অর্থ ''বাঘের অরণ্য।'' বাঘগরিষ্ঠ জঙ্গল, তাই বাঘের অরণ্য বলা হতো। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের ফতেগড় সাহিব জেলার একটি শহর সিরহিন্দ। স্থানীয় মুসলমানদের কাছে "রাউযা শারিফ" হিসেবে সমাদৃত স্থানটা।

জনসংখ্যা প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক। সারা ভারতের সাক্ষরতার হারের চেয়ে এই শহরের সাক্ষরতার হার বেশি। যাহোক। মূল কথায় আসি। সিরহিন্দের "রাউযা শরিফ/রওজা শরিফ"।

হাজার বছরের মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) 'মুজাদ্দিদ আলফেসানী' হিসেবে তাঁকে চিনে গরিষ্ঠজন। কিংবা মকতুবাত শরিফের বরাতে চিনেন। মকতুবাত শরিফ হচ্ছে মুজাদ্দিদ আলফেসানী হযরত শায়খ আহমদ ফারুক সিরহিন্দী রাদিআল্লাহু আনহু এঁর লিখিত ৭৩৪ টি অমূল্য পত্র। এগুলোকে একত্রে মকতুবাত শরিফ বলে।

মকতুবগুলো মোট ৩ খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খন্ডের নাম 'দুররুল মারিফাত'-''মারিফাতের খনি''। এই খন্ডে মোট ৩১৩ টি মকতুব রয়েছে। হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী কেবলা এঁর খলিফা খাজা ইয়ার মোহাম্মদ জদীদ বদখশী তালকানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এইগুলো একত্রিত করেন।

৯৯টি মকতুবের সমন্বয়ে দ্বিতীয় খন্ডের নাম 'নুরুল মারিফাত'-"মারিফাতের দ্যুতি" যা মুজাদ্দিদ আলফে সানী কেবলা এঁর খলিফা হযরত মাওলানা আবুল হাই হেসারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি একত্রিত করেন।

'মারিফাতুল হাকায়েক'- "মারিফাতের মূল" নামক তৃতীয় খন্ডের মকতুবাত এঁর একত্রকরণ করেন মুজাদ্দিদ কেবলা এঁর খলিফা খাজা মোহাম্মদ হাশেম বোরহানপুরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। এতে ছিলো ২১২ টি পত্র।

শায়খ আহমদ ফারুক সিরহিন্দী কেবলা ছিলেন খলিফাতুল মুসলিমিন, আমিরুল মু'মিনিন, গাইযুল মুনাফেকিন, ফারুকে আ'যম হযরত সাইয়্যিদুনা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু এঁর বংশধর।

মোগল সম্রাট আকবরের কথিত "দ্বীন-এ-ইলাহী" এবং তদীয় পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহানের রাফেজিয়াত (শিয়াবাদ) এঁর রন্ধ্রে রন্ধ্রে চালিয়েছেন হকের তলোয়ার রূপী লিখনী।
চিরতরে ধূলিসাৎ করেছেন এই দুই ফেতনাকে।
এইজন্যই 'মুজাদ্দিদ আলফেসানী'-- "দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ"। যার প্রমাণ "রেসালায়ে রদ্দে রাওয়াফেজ"।

তিনি হযরত খাজা বাকী বিল্লাহ্ আন্-নকশবন্দী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এঁর মুরিদ। ইমামুত তরিক্বত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দী আল্-বুখারি রাদিআল্লাহু আনহু এঁর নির্দেশে তিনি হিন্দুস্তানে আসেন মুজাদ্দিদ আলফেসানী কেবলার খুঁজে। মাজহাব-আকাইদে তকলিদ হানাফি-মাতুরিদি।

তাঁর মোজাদ্দেদিয়ত স্বয়ং হুজুর পাক ﷺ কর্তৃক প্রদত্ত। একদিন হযরত সিরহিন্দী কেবলা নির্জন কক্ষে উপবিষ্ট অবস্থায় হুজুর আকরাম ﷺ, সমস্ত আম্বিয়ায়ে
কেরাম ও অসংখ্য ফেরেশতা আলাইহিস সালাম ও আউলিয়ায়ে কেরামের উপস্থিতিতে, হুজুর ﷺ স্বীয় নবুয়তি হস্ত মুবারকে হযরত শায়খ আহমদ ফারুক সিরহিন্দী কেবলাকে এক অমূল্য বৈশিষ্ট্যময় পোশাক পরিয়ে দেন। এবং ইরশাদ করেন, 'শায়খ আহমদ, মুজাদ্দিদ এঁর প্রতীকস্বরূপ এই বিশেষ "খিলআত" তোমাকে পরানো হলো। এখন থেকে তুমি মুজাদ্দিদ আলফেসানী"। সুবহানআল্লাহ্!

একদিন হুজুর সায়্যিদুন সিদ্দিকে আকবর রাদিআল্লাহু আনহু, মাওলা আলী শেরে খোদা কারমাল্লাহু ওয়াজহাহুল করিম, হুজুর গাউসে পাক শাহেনশাহে বোগদাদ, সুলতানুল হিন্দ খাজা গরীব নেওয়াজ, ইমামুত তরীক্বত খাজা বাবা নকশবন্দী, ইমামুত তরিক্বত খাজা শিহাবুদ্দীন ওমর সোহরাওয়ার্দী উপস্থিত হলেন এবং রহমাতুল্লিল আলামিন ﷺ এঁর নির্দেশে মশহুর চার তরিকার খেলাফত তরিকতের ইমামদের নিকট হতে লাভ করেন। প্রত্যেক তরিকার কামালাতের সমষ্টিভূত তরিকার জন্ম হলো--তরিকায়ে মুজাদ্দেদিয়া।

এই মহান মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত, শায়খে তরিক্বত, শামসুল ওলামা, কুতুবুল আকতাব, শাহেনশাহে কাশফ ও কারামত ১০৩৪ হিজরীর ২৭ শে সফর মওলার চির-দিদারে দুনিয়া থেকে পর্দা করেন।

তাঁর রূহানী-ঈমানী-ইলমী ফয়েজ ও বরকত সকলের নসিব হোক।

ইয়া মুজাদ্দিদ আলফেসানী শায়খ আহমদ,
আমি অকাতরে পিয়েছি তোঁমারই প্রেম মদ।
আমি চির অসুস্থ। অনির্বাপিত প্রেমঅনলে পতিত,
তোঁমার একটু দয়ার নজর করবে অদমকে শান্ত।

 সংগৃহীত।
SHARE

Author: verified_user